বুটের ডাল অনেকের কাছে খোসা ছাড়া ছোলার ডাল হিসেবেও পরিচিত। বুটের ডাল যেমন সুস্বাদু, তেমনই স্বাস্থ্যকর। খাবারের তালিকায় এই ডাল যুক্ত করে আপনি যেমন এর স্বাদ উপভোগ করতে পারেন, তেমনই এটি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতাও বজায় রাখতে সাহায্য করবে। চিচিঙ্গা ও বুটের ডালের সবজি, বুটের ডালের খিচুড়ি, এমনকি বুটের ডালের হালুয়া- এসব খাবার প্রায় সবার কাছেই বেশ জনপ্রিয়।
বুটের ডালের ব্যবহার
- ভর্তা, ভাজি বা সবজিতে: বুটের ডাল দিয়ে বিভিন্ন সবজি যেমন—চিচিঙ্গা, চালকুমড়ো, লাউ ইত্যাদি রান্না করা যায়। এই ডাল দিয়ে ভর্তা বা ভাজাও তৈরি করা হয়।
- মিষ্টি তৈরিতে: বুটের ডাল দিয়ে তৈরি হালুয়া বা বরফি বাঙালি সমাজে খুবই জনপ্রিয়। এছাড়াও বুটের ডাল দিয়ে তৈরি পায়েস এবং অন্যান্য মিষ্টি খাবারও বেশ সুস্বাদু।
- ডালের তরকারি ও বড়া তৈরিতে: আমরা যে সাধারণ ডাল রান্না করি, তার মধ্যে বুটের ডালও ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও এই ডাল দিয়ে তৈরি বড়া বেশ মচমচে হয়।
- খিচুড়ি ও বিরিয়ানি তৈরিতে: খিচুড়ি ও বিভিন্ন ধরনের বিরিয়ানি রান্নার সময় বুটের ডাল ব্যবহার করা হয়। এটি খাবারের স্বাদ ও পুষ্টি দুটোই বাড়িয়ে তোলে।
বুটের ডালের উপকারিতা
- প্রোটিনের উৎস: বুটের ডাল প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস, যা পেশি গঠনে সাহায্য করে। তাই এটি নিরামিষাশীদের জন্য প্রোটিনের একটি ভালো বিকল্প।
- হজমশক্তি বৃদ্ধি করে: এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা হজমশক্তি বাড়াতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: বুটের ডাল ভিটামিন ও মিনারেলস যেমন—আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদিতে ভরপুর। এই উপাদানগুলো আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: বুটের ডালে থাকা ফাইবার পেট অনেকক্ষণ ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে যায়। এটি ওজন কমানো এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে: বুটের ডালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না। ফলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী।
- হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে: এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফাইবার রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখে।

