সাদা চিনি দেখতে কতই না সুন্দর আর ঝরঝারে তাই না? দেখতে সুন্দর আর ঝরঝারে সাদা চিনির অপকারিতা না জানার কারণে আমি, আপনি, আমরা সবাই এই সাদা চিনি খেয়েই হার্ট এট্যাক, ডায়াবেটিস সহ লিভার নষ্ট করার মত রোগের দিকে আমাদের শরীরকে বিনা দ্বিধায় ঠেলে দিচ্ছি। দেশের বাইরে থেকে আমদানিকৃত কিংবা দেশে উৎপাদিত যে রকমই হোক না কেন পরিশোধিত সাদা চিনি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু দেশে উৎপাদিত লাল চিনির অনেক উপকারিতা ও গুণাগুণ রয়েছে। তাই স্বাস্থ্যকে ঠিক রাখতে সাদা চিনির পরিবর্তে আমাদের দেশে উৎপাদিত লাল চিনি খাওয়া উত্তম।
আমাদের লাল চিনি কেন সেরা?
- ১০০% বিশুদ্ধ এবং স্বাস্থ্যকর: আমাদের লাল চিনিতে কোনো ভেজাল নেই। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে তৈরি করা হয়, যা আপনার সুস্থ জীবন নিশ্চিত করে।
- স্বাদের নিশ্চয়তা: আমরা গুণগত মানের ব্যাপারে আপোষ করি না। তাই আমাদের লাল চিনির প্রতিটি দানায় পাবেন নিখুঁত স্বাদ।
- ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত: সাধারণ চিনির মতো এতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান নেই। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়।
- ওজনে সঠিক: আমাদের লাল চিনি তুলনামূলকভাবে কম ভেজা। ফলে এটি ওজনে সঠিক থাকে এবং আপনি আপনার কেনা পরিমাণের পূর্ণ মূল্য পাবেন।
আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের লাল চিনি শুধু একটি পণ্য নয়, এটি আপনার সুস্বাস্থ্য ও উন্নত জীবনের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার।
বাংলাদেশ খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের বাইরে থেকে আমদানিকৃত কিংবা দেশে উৎপাদিত পরিশোধিত সাদা চিনি স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। লাল চিনিকে কারখানায় পরিশোধিত করে সাদা করার জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান মেশানো হয় আর সেই কারণেই পরিশোধনের সময় প্রোটিন, মিনারেল, ভিটামিন, এনজাইম সহ অন্যান্য উপকারি পুষ্টি উপাদান দূর হয়ে যায়। পরিশোধনের আগে এবং পরে লাল চিনি ও সাদা চিনির মধ্যে পুষ্টি উপাদানের যে পার্থক্য থাকে তা হলোঃ
| উপাদানের নাম ও পরিমাণ ( মাত্রা ) | আখ থেকে উৎপাদিত লাল চিনিতে | পরিশোধিত সাদা চিনিতে |
| ক্যালসিয়াম | ১৬০.৩২ ভাগ | ১.৫৬ থেকে ২.৬৫ ভাগ |
| পটাশিয়াম | ১৪২.৯ ভাগ | 0.৩২ থেকে 0.৩৫ ভাগ |
| ফসফরাস | ২.৫ থেকে ১০.৭৯ ভাগ | ২.৩৫ ভাগ |
| আয়রন | 0.৪২ থেকে ৬ ভাগ | 0.৪৭ ভাগ |
| ম্যাগনেশিয়াম | ১৫ থেকে ৩.৮৬ ভাগ | 0.৬৬ থেকে ১.২১ ভাগ |
| সোডিয়াম | 0.৬ ভাগ | 0.২ ভাগ |
লাল চিনি সরাসরি আখ থেকে উৎপাদিত অপরিশোধিত চিনি। উৎপাদনের পর অপরিশোধিত থাকে বলে লাল চিনিতে আখের সব উপাদান ম্যাঙ্গানিজ,ম্যাগনেসিয়াম,শর্করা,ক্যালসিয়াম,পটাশিয়াম,লৌহ, অ্যামাইনো অ্যাসিড,জিঙ্ক,থায়ামিন,রিবোফ্লবিন,ফলিক এসিড, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়ে যায়। আর ঠিক এজন্য সাদা চিনির চেয়ে লাল চিনির উপকারীতা বেশি।

